তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত শুক্রবার (৮ মে) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং পরবর্তীতে এই ঘটনার ন্যায্য বিচার ও শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তারা সংসদে সম্মাননা জানিয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঐ সময় বিএনপি দুই দিনের হরতালের ডাক দেয় এবং দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, “শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি পরবর্তী দায়িত্ব বিএনপি পালন করবে বলেই আমরা আশাবাদী। একটি রাজনৈতিক দল সত্যিকার অর্থে সফল হয় যখন শুধু নিজেদের কর্মীদের নয়, বরং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে।”
শাপলা চত্বরে নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপায় হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে একত্রিত থাকা। তিনি ১৯৫২, ১৯৬৯ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার উল্লেখ করে বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমৃদ্ধি। ক্ষমতার পালাবদল নয়, দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই মুখ্য।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি জাতীয় দায় এখনো শেষ হয়নি — এটি ভবিষ্যতেও পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা দুর্বল করেছিল। তিনি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দেশজুড়ে নানা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও মর্মপীড়া তৈরি হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সঠিক বিচার ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই শহীদদের আত্মার শান্তি সম্ভব।